ট্রয় নগরীর ইতিহাস (History of Troy)

troy

মাত্র একজন নারীর প্রেম আর সবকিছু শেষ! একজন নারীই কি সত্যিই একটি মহাশক্তিশালী সাম্রাজ্যের পতনের কারণ হতে পারে? আর একটি কাঠের ঘোড়া-কীভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতারণার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে ? 


আজ আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি এমন এক নগরীর ধ্বংসস্তূপে, যেখানে প্রেম জন্ম দিয়েছিল বিশ্বাসঘাতকতাকে, অহংকার ডেকে এনেছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, আর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল এক অদম্য সভ্যতা। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কোন নগরীর কথা বলছি? 


স্বাগত জানাচ্ছি ট্রয়ের প্রেম আর ধ্বংসের নগরীতে !!


খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ সাল থেকে উত্তর-পশ্চিম আনাতোলিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে গড়ে উঠেছিল এক সমৃদ্ধ নগরী-ট্রয়। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এটি ছিল বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক শক্তির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। 

troy-city

উঁচু প্রাচীর, সুসংগঠিত দুর্গ, দক্ষ যোদ্ধা এবং সমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে বহু রাজ্য ট্রয়কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইত। ট্রয়ের রাজা ছিলেন প্রিয়াম (Priam)। রানি ছিলেন হেকুবা (Hecuba)।  তাঁদের পুত্রদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিলেন হেক্টর (Hector) এবং প্যারিস (Paris)।


কিন্তু ট্রয়ের প্রকৃত খ্যাতি এসেছিল কেবল  তার শক্তি আর প্রবল নিরাপত্তার  জন্য নয় বরং এমন এক প্রেমের গল্পের জন্য, যা পরিণত হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত যুদ্ধে।


শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ বিশ্বাস করত, ট্রয় হয়তো শুধুই একটি কাব্যের কল্পলোক। কিন্তু ট্রয় সত্যিই একটি বাস্তব শহর ছিল। এমন কি ট্রয় ছিল প্রায় ৪,০০০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বসবাসযোগ্য একটি নগর। ট্রয় বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। ১৮৭০-এর দশকে জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হাইনরিশ শ্লিমান (Heinrich Schliemann) হিসারলিকে খননকাজ শুরু করেন।


এর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসারলিক (Hisarlık) নামে পরিচিত।  এটি দারদানেলস (Dardanelles) প্রণালীর কাছে অবস্থিত ছিল, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণ করত। প্রথমে অনেকেই তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিলেন।


কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বেরিয়ে আসতে শুরু করল বিশাল পাথরের দেয়াল, প্রাচীন নগরীর প্রবেশপথ, বাসস্থান, মৃৎপাত্র, অস্ত্র এবং হাজার হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার চিহ্ন। পৃথিবী অবাক হয়ে গেল। কারণ ট্রয় শুধুই গল্প ছিল না। অন্তত একটি বাস্তব নগরী সত্যিই সেখানে ছিল।

old-troy-city

কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার তখনও বাকি ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা দেখতে পেলেন এখানে একটি নয়, দুটি নয় বরং নয়টিরও বেশি স্তরে বিভিন্ন সময়ের নগরী একটির ওপর আরেকটি তৈরি হয়েছে। প্রতিবার কোনো শহর ধ্বংস হয়েছে তার ওপরই আবার নতুন শহর গড়ে উঠেছে।


এই স্তরগুলোকে আজ Troy I থেকে Troy IX নামে চিহ্নিত করা হয়। গবেষকদের অনেকের মতে, Troy VI এবং Troy VIIa স্তরই সম্ভবত সেই সময়ের, যাকে ট্রয় যুদ্ধের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায়।


এবার ফিরে আসি সেখানে, যেখান থেকে ট্রয় নগরী ধ্বংসের কারন শুরু হয়েছে-

প্রাচীন গ্রিসের ইতিহাসে এমন একজন নারীর নাম আছে, যাকে বলা হতো - ‘The Face That Launched a Thousand Ships’- আর সেই নারীর নাম হেলেন।

helen

ইতিহাস বলে, তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী।  তাঁর সৌন্দর্যের কথা শুধু গ্রিসেই নয়, দূর-দূরান্তের রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল। অসংখ্য গ্রিক রাজপুত্র তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পিতা   টিন্ডারিয়াস (Tyndareus) সংঘর্ষ এড়াতে একটি শপথ করান, যা Oath of Tyndareus নামে পরিচিত।


এতে সব পাত্র প্রতিজ্ঞা করেন যে, যাকে হেলেন বিয়ে করবেন, সবাই তার অধিকার রক্ষা করবে। শেষ পর্যন্ত তিনি স্পার্টার রাজা মেনেলাউসের স্ত্রী হন। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করছি যে, অনেকেই বলে থাকেন যে, হেলেনের বিয়ে হয়েছিল তার চাচা মেনেলাউসের সাথে। এই তথ্য টি ভুল। সেক্ষেত্রে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিচ্ছি তাহলেই বুঝতে পারবেন। 


হেলেনের বংশপরিচয়ঃ হেলেনের পিতার নাম  টিন্ডারিয়াস (Tyndareus), যিনি স্পার্টার রাজা। আর মাতার নাম লেডা (Leda)। 


অন্যদিকে-মেনেলাউসের পিতার নাম অ্যাট্রিয়াস (Atreus)। আর মাতার নাম অ্যারোপে (Aerope)। আর ভাইয়ের নাম: আগামেমনন (Agamemnon)।

  

অর্থাৎ, টিন্ডারিয়াস ও অ্যাট্রিয়াস ভিন্ন পরিবার ও বংশের মানুষ ছিলেন। তাই মেনেলাউস হেলেনের চাচা (পিতার ভাই) ছিলেন-এমন কোনো স্বীকৃত গ্রিক তথ্য নেই।


তাহলে বিভ্রান্তি কেন হয়? বিভ্রান্তির একটি কারণ হলো, আগামেমনন অর্থাৎ মেনেলাউসের ভাই বিয়ে করেছিলেন ক্লাইটেমনেস্ট্রাকে (Clytemnestra), যিনি হেলেনের বোন। অর্থাৎ, দুই ভাই দুই বোনকে বিয়ে করেছিলেন। এখান থেকেই অনেকে ভুল করে আত্মীয়তার সম্পর্ক গুলিয়ে ফেলেন।


যাই হোক, গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, ট্রয়ের যুবরাজ প্যারিস (Paris) স্পার্টায় এসেছিলেন একটি কূটনৈতিক (diplomatic) ও শান্তিপূর্ণ সফরে। তিনি যুদ্ধ করতে আসেননি; বরং অতিথি হিসেবে রাজা মেনেলাউসের আতিথ্য গ্রহণ করেন।


গ্রিক পুরাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো “Judgement of Paris”। এটি সংগঠিত হয়েছিল তখন, যখন তিন দেবী-হেরা, অ্যাথেনা ও অ্যাফ্রোডাইটি- একটি সোনার আপেলের মালিকানা নিয়ে বিরোধে জড়ান। বিচারক হিসেবে প্যারিসকে বেছে নেওয়া হয়। তিন দেবীই তাঁকে প্রলোভন দেখান। 


• হেরা দেন বিশ্ব শাসনের প্রতিশ্রুতি। 

• অ্যাথেনা দেন জ্ঞান ও যুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি। 

• অ্যাফ্রোডাইটি প্রতিশ্রুতি দেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী হেলেনকে তাঁর স্ত্রী বানিয়ে দেবেন। 

• প্যারিস অ্যাফ্রোডাইটিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এরপরই তিনি হেলেনের সন্ধানে স্পার্টায় যান। প্যারিস স্পার্টায় কয়েকদিন অতিথি হিসেবে থাকেন। একসময় রাজা মেনেলাউস পারিবারিক একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে ক্রিট দ্বীপে যান। সেখানেই হেলেনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়।

• কিছু পুরাণে বলা হয়েছে, হেলেন স্বেচ্ছায় প্যারিসের সঙ্গে ট্রয়ে চলে যান। অন্য কিছু পুরাণে বলা হয়েছে, প্যারিস হেলেনকে অপহরণ করেন। আবার কিছু লেখকের মতে, দেবী অ্যাফ্রোডাইটির প্রভাবে ঘটনাটি ঘটে। তবে যেভাবেই যাক না কেন এই ঘটনাকেই ট্রয় যুদ্ধের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। আর একটি বিষয় নিশ্চিত- হেলেন ট্রয়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের চাকা ঘুরে যায়।

paris-helen

স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এই অপমান সহ্য করতে পারলেন না। তিনি তাঁর ভাই, শক্তিশালী রাজা আগামেমনন- এর কাছে সাহায্য চাইলেন। তারপর -  গ্রিসের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা একত্রিত হতে শুরু করে।


জানা যায় প্রায় এক হাজার যুদ্ধজাহাজ এজিয়ান সাগর পাড়ি দেয় ট্রয়ের উদ্দেশ্যে। তবে এটি   শুধু একজন নারীকে ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ নয় ; এটি ছিল সম্মান, ক্ষমতা, প্রতিশোধ এবং আধিপত্যের যুদ্ধ।


অন্যদিকে ট্রয়ও প্রস্তুত ছিল। শহরটিকে ঘিরে ছিল বিশাল পাথরের প্রাচীর। দুর্গ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সরাসরি আক্রমণ করেও সেটি ভাঙা প্রায় অসম্ভব ছিল। আর ট্রয়ের সবচেয়ে সাহসী যোদ্ধা ছিলেন হেক্টর। তিনি শুধু একজন সেনাপতি ছিলেন না; তিনি ছিলেন নিজের মাতৃভূমির শেষ আশা।


গ্রিক বাহিনীর সবচেয়ে ভয়ংকর যোদ্ধার নাম- অ্যাকিলিস। তার নেতৃত্বে যুদ্ধ চলতে লাগল। তবে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হতে লাগল ততই বাড়তে লাগল রক্তপাত। একদিন অ্যাকিলিসের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু প্যাট্রোক্লাস যুদ্ধে নিহত হন। শোকে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন অ্যাকিলিস। তিনি সরাসরি হেক্টরকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহ্বান জানান। ট্রয়ের প্রাচীরের সামনে শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত যুদ্ধ।


দুই কিংবদন্তি যোদ্ধা, দুই সভ্যতার প্রতীক, এই যুদ্ধের রীতি হলো-একজন বাঁচবেন- অন্যজন ইতিহাস হয়ে যাবেন। অবশেষে হেক্টর নিহত হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ট্রয়ের মনোবল ভেঙে পড়তে শুরু করে। কিন্তু শহরটি তখনও অজেয়।


যুদ্ধের দশ বছর কেটে গেছে। গ্রিক বাহিনী ক্লান্ত। ট্রয় এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে। আর তখনি তখন জন্ম নেয় ইতিহাসের এক অসাধারণ পরিকল্পনা। গ্রিক যোদ্ধা ওডিসিয়াস এমন একটি কৌশল ভাবলেন, যা শুধু যুদ্ধই নয়, ইতিহাসও বদলে দেবে।


তারা তৈরি করল একটি বিশাল কাঠের ঘোড়া। ঘোড়ার ভেতরে লুকিয়ে থাকলেন নির্বাচিত কিছু দক্ষ যোদ্ধা। অন্যদিকে বাকি নৌবহর সমুদ্রে দূরে সরে গেল, যেন মনে হয় তারা যুদ্ধ ছেড়ে চলে গেছে।


পরদিন সকালে ট্রয়ের মানুষ দেখল শত্রুরা নেই। শুধু পড়ে আছে এক বিশাল কাঠের ঘোড়া।কেউ বলল এটি দেবতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ। কেউ বলল এটি বিজয়ের উপহার। আবার কেউ সতর্ক করল ‘এটি শহরের ভেতরে আনবেন না।‘ কিংবদন্তি অনুযায়ী, ট্রয়ের পুরোহিত লাওকুন বলেছিলেন- “উপহার নিয়ে এলেও গ্রিকদের বিশ্বাস কোরো না।


কিন্তু কেউ তাঁর কথা শুনল না। ঘোড়াটি শহরের ভেতরে নিয়ে আসা হলো। উৎসব শুরু হলো। সারা রাত গান, আনন্দ,বিজয়ের উল্লাস আর সেই আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ধ্বংস।


রাত গভীর হলো। শহর ঘুমিয়ে পড়ল। ঠিক তখনই কাঠের ঘোড়ার ভেতর থেকে একে একে বেরিয়ে এলেন গ্রিক যোদ্ধারা। তারা নিঃশব্দে ট্রয়ের প্রধান ফটক খুলে দিল। সমুদ্রের অন্ধকারে অপেক্ষা করছিল পুরো গ্রিক বাহিনী। মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার সৈন্য শহরের ভেতরে ঢুকে পড়ল। তারপর, , তারপর আগুন, চিৎকার, রক্ত আর ধ্বংস।


ট্রয়ের অট্টালিকা একে একে জ্বলতে শুরু করল। যে শহর দশ বছর ধরে কোনো সেনাবাহিনী দখল করতে পারেনি সেই শহর মাত্র এক রাতেই ধ্বংস হয়ে গেল। রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল ভাঙা রথ, ভেঙে পড়া প্রাসাদ আর অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ। কিংবদন্তি অনুযায়ী, গ্রিক সৈন্যরা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়।


রাজা প্রিয়াম নিহত হন। রাজপরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। যোদ্ধারা একে একে প্রাণ হারায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক শক্তির প্রতীক ছিল যে শহর - সেটি পরিণত হয় ধোঁয়া আর ধ্বংসস্তূপে।


কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ট্রয়ের কিছু মানুষ সেই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পালিয়ে বেঁচে যান। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত নাম- এনিয়াস । রোমান মহাকাব্য Aeneid - এ বলা হয়েছে, তিনি ট্রয় থেকে পালিয়ে বহু পথ অতিক্রম করে ইতালিতে পৌঁছান, এবং পরবর্তীকালে তাঁর বংশধরদের থেকেই রোমান সভ্যতার ভিত্তি গড়ে ওঠে।


আজ যদি আপনি সেই মহা আশ্চর্যের  ট্রয় দেখতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চানাক্কালে (Çanakkale) প্রদেশে, হিসারলিক (Hisarlık) প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে। একসময় যে শহরকে ঘিরে দশ বছরের যুদ্ধের গল্প বলা হয়, আজ সেখানে রয়েছে নীরব ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা প্রাচীর, প্রাচীন প্রবেশদ্বার, পাথরের ভিত্তি আর হাজার হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে চলা মাটি।


১৯৯৮ সালে ট্রয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (UNESCO World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক, ইতিহাসবিদ এবং গবেষক এখানে আসেন।


অনেকে আসেন ইতিহাসকে দেখতে, অনেকে মহা আশ্চর্য কে অনুভব করতে। আর কেউ কেউ শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে - ট্রোজান হর্স কি সত্যিই ছিল ? 


ট্রয় নগরী শুধু একটি যুদ্ধের গল্প শোনায় না বরংএটি শেখায় - প্রেম কখনও কখনও সাম্রাজ্যের ভাগ্য ও বদলে দিতে পারে। অহংকার একটি শক্তিশালী নগরীকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর সবচেয়ে অজেয় দুর্গও ভেঙে পড়তে পারে ! 


হয়তো ট্রোজান হর্স সত্যিই ছিল,  হয়তো ছিলই না।  কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত যে “Trojan Horse” আজও বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এক প্রতারণার প্রতীক হয়ে মানবজাতির মনে বেঁচে আছে। আর ট্রয় --- আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস আর অনুভূতির মাঝখানে! একটি প্রশ্ন হয়ে, একটি রহস্য হয়ে , একটি অমর কাহিনি হয়ে। 


এতক্ষণ যা শুনলেন আর দেখলেন তাতে আপনার কী মনে হয়?  ট্রয় যুদ্ধ কি সত্যিই ঘটেছিল, নাকি এটি হোমারের অসাধারণ কল্পনার সৃষ্টি? তবে মনে রাখতে হবে ইতিহাস পুরোটাই মিথ্যা হয়না । 


আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্টে লিখুন। আর যদি ইতিহাস, হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা, প্রাচীন রহস্য এবং সত্য ঘটনা নিয়ে এমন আরও সিনেম্যাটিক ভিডিও দেখতে চান তাহলে ভিডিওটি লাইক করুন, চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল আইকনটি অন করে দিন।


পরবর্তী পর্বে আমরা নিয়ে আসব ইতিহাসের আরেকটি বিস্ময়কর রহস্য- "ওডিসি"। ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকুন, ইতিহাসকে জানুন, আর কৌতূহলকে বাঁচিয়ে রাখুন।-

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url