History of of Babylon: ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্য!

Babylon-Hanging-Gardens

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু বিস্ময় আছে, যাদের অস্তিত্ব আজও প্রশ্নবিদ্ধ!! তবুও তারা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের কল্পনা জাগিয়ে রেখেছে। আজ আমরা কথা বলবো তেমনই এক রহস্যময় বিস্ময় নিয়ে- প্রাচীন ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান “Hanging Gardens of Babylon”, যাকে বলা হয় বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি।


কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই উদ্যান কি সত্যিই পৃথিবীতে ছিল? নাকি এটি শুধুই ইতিহাসের রহস্যময় সুন্দর কল্পনা?


আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর আগে, বর্তমান ইরাক অঞ্চলে অবস্থিত ছিল এক বিশাল নগরী-

ব্যাবিলন “Babylon”। এই শহর ছিল জ্ঞান, স্থাপত্য ও ক্ষমতার প্রতীক। ঐতিহাসিকদের মতে, এর শাসক ছিলেন কিংবদন্তি রাজা নেবুচাদনেজার দ্বিতীয়।


তাঁর রাজত্ব কালে ব্যাবিলন হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহরগুলোর একটি। আর এই সময়েই তৈরি হয়েছিল সেই রহস্যময় উদ্যান- যা নাকি আকাশের দিকে ধাপে ধাপে উঠে গিয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, রাজা নেবুচাদনেজার এই উদ্যানটি তৈরি করেছিলেন তাঁর প্রিয় স্ত্রী, রানী আমিতিস- এর জন্য।

babylon-city

আমিতিস ছিলেন পাহাড়ি অঞ্চলের রাজকন্যা। ব্যাবিলনের শুষ্ক ও মরুভূমির মতো পরিবেশে তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন। তাঁর মন পড়ে থাকতো সবুজ পাহাড়, বন আর ঝর্ণার মাঝে। স্ত্রীর সেই কষ্ট দূর করতেই রাজা নেবুচাদনেজার আদেশ দেন,- মরুভূমির মাঝখানে তৈরি হোক এক সবুজ পাহাড়। একটি উদ্যান, যা মাটিতে নয়,বরং আকাশে ঝুলে থাকবে।


এই উদ্যান কোন সাধারণ বাগান ছিল না। এটি ছিল ধাপে ধাপে তৈরি বিশাল টেরেস বা স্তর।

প্রতিটি স্তরে ছিল গাছ, লতা, ফুল আর ফলের বাগান। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল,- এই উদ্যানে পানি সরবরাহ করা হতো ইউফ্রেটিস নদী থেকে, যা ছিল উদ্যান থেকে অনেক নিচে!


ইতিহাসবিদদের ধারণা, সেখানে ব্যবহৃত হয়েছিল এক ধরনের প্রাচীন যান্ত্রিক ব্যবস্থা- আজকের ভাষায় যাকে বলা যায় ওয়াটার লিফট “Water lift” বা স্ক্রু সিস্টেম। এই প্রযুক্তি যদি সত্যিই তখন ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে তা ছিল সময়ের চেয়ে বহু শতাব্দী এগিয়ে।

water-lift

এত কিছুর পরেও এক বড় প্রশ্ন থেকেই যায়,- এর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ কেন নেই। ব্যাবিলনের অন্যান্য স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও এই শূন্য উদ্যানের স্পষ্ট কোনো চিহ্ন আজও পাওয়া যায়নি। 


কিছু গবেষক মনে করেন,- এই উদ্যান আসলে ব্যাবিলনে নয়, বরং নিনেভে নামক অন্য এক শহরে ছিল। আবার কেউ বলেন,- এটি হয়তো বিভিন্ন বাগানের গল্প মিলিয়ে তৈরি এক রূপক কাহিনি।


শূন্য উদ্যান বিখ্যাত শুধু তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং তার অদৃশ্য অস্তিত্বের জন্য। যে জিনিস দেখা যায় না, কিন্তু কল্পনায় বেঁচে থাকে, মানুষের কাছে সেটাই সবচেয়ে শক্তিশালী। এই উদ্যান আমাদের মনে করিয়ে দেয়- মানুষ ভালোবাসার জন্য কত অসম্ভব কাজও করতে পারে। প্রযুক্তি, শিল্প আর আবেগ, সব একসাথে মিললে কী সৃষ্টি হতে পারে।


ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান হয়তো আজ আর নেই… অথবা হয়তো কখনো ছিলই না। কিন্তু এর গল্প, এর রহস্য, আর এর কল্পনা আজও বেঁচে আছে। ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর প্রশ্নচিহ্ন হয়ে।


কিন্তু আপনি কী মনে করেন? শূন্য উদ্যান কি সত্যিই ছিল? নাকি এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কল্পনা? কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url