Actress Emma Thompson এর ডিভোর্সের দিনেই ট্রাম্পের কু-প্রস্তাব!
১৯৯৮ সালে ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থম্পসনের জীবনে ঘটে এমন এক ঘটনা যা শোনার পর মনেহবে- এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়!
১৯৯৮ সালের কথা, বর পত্মহলেন ব্রিটিশ অভিনেতা কেনেথ ব্রানাঘ, ডিভোর্সের কাগজে সই করলেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থম্পসন। আর সেই একই দিনে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন, তার সাথে অভিসারে যাবার জন্য।
৮ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে এমা তাঁর অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ‘লিওপার্ড ক্লাব অ্যাওয়ার্ড’গ্রহণের সময় এ ঘটনা শেয়ার করেন। এমা থম্পসনের মতে, সেই দিনটা ছিল ‘Primary Colors’ নামক সিনেমার সেটে। এক মিনিটে, ডিভোর্সের জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে, পরের মিনিটে হঠাৎ ট্রাম্পের ফোন!
১৯৯৮ সালে ‘প্রাইমারি কালারস’ সিনেমার শুটিং চলাকালে তিনি হঠাৎ ট্রাম্পের ফোন পান। বিশেষ ফেস্টিভাল- লোকারনো ফিল্ম ফেস্টিভালে এমা হাসি মুখে, দর্শকদের সামনে পুরো দৃশ্যটা বর্ণনা করেন এভাবে: -
‘আমি ভেবেছিলাম, কেউ মজা করে ফোন করেছে। ‘মনে হয় আমি ‘Primary Colors’ সেটে, আমার ট্রেলারে ছিলাম। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল- আমি ফোনটা ধরতেই ওপ্রান্ত থেকে বলে উঠলো- “Hello, this is Donald Trump.” আমি হকচকিয়ে বললাম, “কিছুবলবেন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” তারপরওনি বললেন,-
“তোমকে আমার এক সুন্দর বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই। Dinner করবো... এমা থম্পসনের জবাব ছিল,- ‘ওহ, এটা তো খুব দারুণ প্রস্তাব। অনেক ধন্যবাদ, আমি আপনাকে পরে জানাব।’
“এমা হেসে মজাকরে বললেন, “I could have changed the course of American history.” মানে, ‘আমি যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সেদিন ডেটে যেতাম,-
হয়তো তখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসটাই বদলে দিতে পারতাম। সে সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের বিচ্ছেদ হয়েছিল। আর ২০০৫ সালে তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পকে বিয়ে করেন। তখন এমা থম্পসনের স্বামী অভিনেতা কেনেথ ব্রানাঘকে ডিভোর্স করেন।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। পরে ২০০৩ সালে এমা গ্রেগওয়াইজকে বিয়ে করেন। ঠিক একই দিনে ফোনে জনাব ট্রাম্প! এতটাই বোল্ড, এতটাই হঠাৎ-- এই ঘটনা ১৯৯৮ সালে ঘটেছিল।
এমা থম্পসন- দুইবার অস্কার জয়ী, ‘Love Actually’, ‘Sense and Sensibility’ খ্যাত অভিনেত্রী; আর ট্রাম্প- বাণিজ্যিক ব্যবসায়ী হয়ে ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন মেলানিয়া ট্রাম্পকে, পরে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এখানে একটি অসামঞ্জস্যের ছোঁয়া আছে, একদিকে এনসাইকেল opedic দক্ষ অভিনেত্রী- অন্যদিকে, হঠাৎ ডিভোর্সের same-day ফোন? ঠিক যেন সিনেমার মতো গল্প!
এবিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে রিপোর্ট করা হয়েছে- The Guardian, People Magazine, Page Six, এবং Economic Times, সবাই এঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
এই কথা শুনে দর্শকরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন- কেউ বলছেন এটা বিশুদ্ধ ‘stalking’... কেউ আবার বলছেন- ‘এটাকি ঐ সময়ের অভিজাত দের অদ্ভুততা?’ এমা নিজেও ১৯৯৮-র সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে হালকা ভাবে নিয়েছেন- “I thought it was a joke”
এর আগে হলিউডের আরেক অভিনেত্রী সালমা হায়েকও একবার ট্রাম্পের কাছ থেকে ডেটের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ওই সময়ে তিনি সম্পর্কে ছিলেন। সালমা হায়েক বলেন, এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তার কাঁধে কোট জড়িয়ে দেন। সেই সময় তাঁর প্রেমিকও পাশে ছিলেন। এর পর ট্রাম্প তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর সঙ্গে ডেটে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
এই হলিউড অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তাঁকে আমার প্রেমিক থাকার কথা বললাম। তাঁকে আরও বললাম, ‘আপনি কি পাগল নাকি?’ ট্রাম্প জবাব দিয়েছিলেন,- ‘ওই প্রেমিক তোমার জন্য যথেষ্ট ভালো নয়। আমার সঙ্গে তোমার যাওয়া উচিত।’বর্তমানে সালমা হায়েকের স্বামী ফরাসি বিলিয়নিয়ার ফ্রাঁসোয়া- অঁরিপিনো।
শেষমেষ, এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়- কখনো কখনো জীবনও সিনেমার মতো হিরো মোমেন্ট ফেলে; যেখানে একটি কল, একটি হাসি- এবং গোটা ইতিহাস পালটেযাবার সম্ভাবনা থাকেI
