El Nino: আগুনে পুড়বে পৃথিবী, আমেরিকা ডুববে পানিতে!

Super-El-Nino

পৃথিবীর আবহাওয়ার ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো শুধু বিজ্ঞান নয়- একেবারে সিনেমার মতো ভয়ংকর, নাটকীয় এবং অবিশ্বাস্য। আজ আমরা কথা বলবো সেই দানবীয় শক্তির গল্প- El Niño… আর তার ভয়ংকর রূপ- সুপার এল নিনো।


একবার ভাবুন- প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশি হঠাৎ করে অস্বাভাবিক ভাবে উষ্ণ হয়ে উঠছে। যেন সমুদ্র নিজেই ফুটন্ত পানির মত ফুটছে! এই পরিবর্তনের নামই- এল নিনো। যা শত শত বছর ধরে পৃথিবীর জলবায়ুকে বদলে দিয়েছে।


১৯৮২-৮৩ সালে শুরু হয় এল নিনো- একদিকে পেরু ও ইকুয়েডরে নেমে আসে ভয়ংকর বন্যা, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হয় ভয়ংকর খরা। জঙ্গল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 


ইতিহাস বলছে, ১৫শ শতাব্দীতেই দক্ষিণ আমেরিকার জেলেরা প্রথম এই অদ্ভুত উষ্ণ স্রোতের খোঁজ পায়। তারা এটিকে নাম দেয় “El Niño” অর্থাৎ “ছোট ছেলে” বা খ্রিস্ট শিশু, কারণ এটি সাধারণত বড়দিনের সময় দেখা দিত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই “ছোট ছেলে” এখন হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর দানব।


তারপর আসে ১৯৯৭-৯৮… ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি। এই সময়, বিশ্বের আবহাওয়া যেন পুরোপুরি পাগল হয়ে গিয়েছিল। United States-এ অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে নদীগুলো উপচে পড়ে। শহরের পর শহর পানির নিচে তলিয়ে যায়। আর Indonesia- তে ভয়ংকর দাবানলে আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়ায়। সূর্য পর্যন্ত দেখা যেত না।


কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন এইবলে- এসব ছিল কেবল ট্রেলার। আসল সিনেমা এখনো বাকি- 


সুপার এল নিনো হল এমন একটি ঘটনা,- যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, তা পুরো পৃথিবীর আবহাওয়াকে উল্টে দেয়। পূর্ব প্রান্ত-এশিয়া, আফ্রিকা প্রচণ্ড তাপে পুড়ে যায়। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে যায়, ফসল নষ্ট হয়, মানুষ পানির জন্য হাহাকার শুরু করে।  


অন্যদিকে, পশ্চিম প্রান্ত-বিশেষ করে আমেরিকা, হয়ে ওঠে পানির রাজ্য। ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা সব একসাথে আঘাত হানে। শহরের রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হয়। ঘরবাড়ি ডুবে যায়, মানুষ আশ্রয় হারায়। এ যেন প্রকৃতির এক ভয়ংকর ভারসাম্যহীনতা। এক পাশে আগুন, অন্য পাশে পানি। 


বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এই সুপার এল নিনোর ঘটনা আরও বেশি শক্তিশালী এবং ঘন ঘন হতে পারে। Global Warming পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে, আর সেই তাপই সমুদ্রকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। যা এল নিনোকে রূপ দিচ্ছে এক দানবীয় শক্তিতে।


একটি ভবিষ্যৎ, যেখানে সূর্যের তাপ যেন আগুনের মতো ঝরে পড়ছে। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বন জ্বলছে, আর অন্যদিকে বিশাল শহরগুলো ডুবে আছে পানির নিচে। মানুষ ছুটছে বাঁচার জন্য, প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়ছে।


এটা কোনো কল্পকাহিনী নয়, এটা হতে পারে আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই প্রশ্নটা এখনই- আমরা কি প্রস্তুত সেই “সুপার এল নিনো”-এর জন্য? কারণ যখন প্রকৃতি তার রূপ দেখায়- তখন কোনো শক্তিই তাকে থামাতে পারে না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url