আল আকসা মসজিদ কেন মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি এই তিন ধর্মের কাছে এত পবিত্র?
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু স্থান আছে, যেগুলো শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, বরং এক জাতির বিশ্বাস, মর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তেমনই এক স্থান হলো আল-আকসা মসজিদ “Al Aqsa Mosque”, ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, যা আজকের বিশ্বের অন্যতম সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু।
জেরুজালেম “Jerusalem” শহরের হৃদয়ে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, ইহুদি ও খ্রিষ্টান এই তিনটি ধর্মের কাছেই পবিত্র “Three Religions Holy Places” । মুসলমানদের বিশ্বাস, এখান থেকেই নবী মুহাম্মদ (সা.) মিরাজে আল্লাহর দরবারে গমন করেন। অপরদিকে ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এই জায়গাটিই একসময় তাদের প্রাচীন টেম্পল মাউন্ট “Temple Mount” অর্থাৎ সোলায়মানের মন্দিরের স্থান। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের দ্বন্দ্বই ইতিহাসে রূপ নেয় রাজনৈতিক সংঘাতে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জেরুজালেম নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। পশ্চিম জেরুজালেম ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, আর পূর্ব জেরুজালেম, যেখানে আল-আকসা অবস্থিত, সেটি থাকে জর্ডানের হাতে। কিন্তু ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়, এবং তখন থেকেই আল-আকসা ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
ইসরায়েল দাবি করে, পুরো জেরুজালেম তাদের রাজধানী। আর ফিলিস্তিনিরা বলে, পূর্ব জেরুজালেমই তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আল-আকসা যেন একটি জীবন্ত প্রতীক- যে প্রতীক মুসলিম বিশ্বের আত্মসম্মান, আর ইসরায়েলি জাতীয় দাবির সংঘর্ষে জ্বলছে প্রতিদিন।
বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলি সেনাদের মসজিদের প্রাঙ্গণে প্রবেশ, ফিলিস্তিনি উপাসনাকারীদের ওপর হামলা, কিংবা ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সেখানে প্রার্থনা করার প্রচেষ্টা এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রতিটি ঘটনাই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। রমজান মাসে আল-আকসার ভেতরে সংঘর্ষের ছবি বারবার ভাইরাল হয়, যা পুরো মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ফিলিস্তিনিদের কাছে আল-আকসা শুধুই একটি মসজিদ নয়, বরং তাদের অস্তিত্ব, তাদের ভূমি ও স্বাধীনতার প্রতীক। অন্যদিকে ইসরায়েল এই জায়গাকে তাদের ঐতিহাসিক ধর্মীয় উত্তরাধিকার হিসেবে দাবি করে, আর তাই এই সংঘাত কেবল ভূখণ্ড নয়, এটি বিশ্বাস ও মর্যাদা আর ধর্মের লড়াই।
আজও আল-আকসা চত্বর জেরুজালেমের আকাশে প্রতিদিন নতুন গল্প রচনা করে- কখনো রক্তের, কখনো প্রতিবাদের, আবার কখনো প্রার্থনার। আর এই এক জায়গা আজও মনে করিয়ে দেয়- যখন বিশ্বাস রাজনীতির সাথে মিশে যায়, তখন একটি পবিত্র স্থানই হয়ে ওঠে যুদ্ধক্ষেত্র।
