পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যঃ অমরত্বের প্রাসাদ! | Mausoleum at Halicarnassus- এর রহস্য

ancient-seven-wonders

মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু স্থাপনা আছে যেগুলো শুধু পাথর আর মার্বেলের তৈরি ছিল না, সেগুলো ছিল ক্ষমতার প্রতীক, অমরত্বের ঘোষণা, আর মৃত্যুকেও হার মানানোর এক ভয়ংকর অপ চেষ্টা।


আজ আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি সেই হারিয়ে যাওয়া বিস্ময়ের ভেতর, যার নাম শুনলেই কেঁপে উঠত প্রাচীন পৃথিবী- Mausoleum at Halicarnassus, অথবা রাজা Mausolus-এর  সমাধি।


খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এশিয়া মাইনরের উপকূলে দাঁড়িয়ে ছিল এক সমৃদ্ধ নগরী - Halicarnassus।

সেই নগরীর শাসক ছিলেন এক শক্তিশালী রাজা-Mausolus!


তিনি শুধু রাজা নন, ছিলেন এক নির্মম কৌশলী শাসক। যিনি চেয়েছিলেন মৃত্যুর পরও যেন পৃথিবী তার নাম ভুলতে না পারে। আর তখনই শুরু হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বিলাসবহুল সমাধি নির্মাণের পরিকল্পনা।


রাজা Mausolus-এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এবং বোন- Artemisia II of Caria এক অসম্ভব সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এমন এক সমাধি তৈরি করবেন- যা পৃথিবীতে আগে কখনও সৃষ্টি হয় নি।  

mausoleum-at-halicarnassus

শত শত শিল্পী, ভাস্কর,স্থপতি, দিনরাত কাজ করতে থাকে। সাদা মার্বেলের বিশাল স্তম্ভ, দেবতাদের মূর্তি আর আকাশ ছুঁয়ে ফেলা স্থাপত্য। প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু সেই সমাধি। সূর্যের আলোয় জ্বলজ্বল করত যেন দেবতাদের প্রাসাদ। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করত এটা কোনো মানুষের সমাধি নয়, এটা অমরত্ব স্বর্গের দরজা।


কিন্তু, এই সমাধিকে ঘিরে দিনে দিনে জন্ম নিতে থাকে ভয়ংকর গুজব।

লোকেরা বলত- রাতের অন্ধকারে সমাধির ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে আসে। কারও দাবি- তারা দেখেছে পাথরের মূর্তি গুলো নড়াচড়া করতে। আবার কেউ বলত রাজা Mausolus-এর  আত্মা এখনও হেঁটে বেড়ায় এই অমূল্য সমাধিতে। কারণ সেই সমাধির ভেতরে লুকিয়ে ছিল অগণিত ধনসম্পদ, স্বর্ণ, রত্ন আর রাজার ব্যবহ্রিত এমন কিছু গোপন রহস্যময় তৈজসপত্র- যা পৃথিবীর চোখ থেকে চিরকালের জন্য লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।


কিন্তু সমইয়ের বিবর্তনে সবকিছুকে ধ্বংস হয়ে যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভূমিকম্প আঘাত হানতে থাকে সেই বিস্ময়ের উপর। একদিন, পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপনাটি ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যে সমাধি একসময় আকাশ ছুঁয়েছিল, আজ তার ভাঙা পাথর ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের ধুলোয়। আর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো- সমাধির ভেতরের অনেক গুপ্তধন আজও নিখোঁজ।


আজ পৃথিবীর প্রতিটি বিশাল সমাধিকে আমরা বলি- ‘Mausoleum.’কারণ এই এক রাজা- মৃত্যুর পরও নিজের নামকে অমর করে গেছেন।

এই ‘Mausoleum’ প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি। এই স্থাপনাটি শুধু একটি স্থাপত্য নয়- এটা ছিল মানুষের অহংকার, ভালোবাসা এবং অমর হওয়ার চেষ্টার প্রতীক। যদিও সময় তাকে ধ্বংস করেছে, তবুও তার উন্মাদনাময় রহস্য আজও জীবিত।


ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো এখনও লুকিয়ে আছে সেই সমাধির অজানা রহস্য, আর হয়তো এভাবেই একদিন পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে এই অমরত্বের প্রাসাদের অবশিষ্ট ভাঙ্গা অংশ টুকুও!


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url